ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এর আদ্যোপান্ত

Created by UY LAB in App Development 2 Oct 2023
Share

ওপেন সোর্স বলতে মূলত বোঝানো হয় যে সফটওয়্যারটি বা সিস্টেমটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এর মধ্যে একজন ব্যবহারকারী তার ইচ্ছেমতো সফটওয়্যারটির পরিবর্তন করতে পারেন যার মাধ্যমে সফটওয়্যারের অনেক ধরনের উন্নতি করতে পারে একজন ব্যবহারকারী। ওপেন সোর্স সফটওয়্যারটির কপিরাইট মালিক যিনি তিনি ব্যবহারকারীকে ঐ সফটওয়্যারটির সোর্স কোড ব্যবহারের অনুমতি দেন যা একজন ব্যবহারকারী সম্পূর্ণ ফ্রি তে ব্যবহার করতে পারে। যেমন : ওয়ার্ডপ্রেস যেটি খুবই জনপ্রিয় একটি একটি ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম। 

ওপেন সোর্স সফটওয়্যার কী ?

ওপেন সোর্স হচ্ছে আপনি যখন কোনো একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন উক্ত সফটওয়্যারটির সকল ধরনের পরিবর্তনের ক্ষমতা আপনার কাছে থাকবে যদিও একজন ব্যবহারকারী কিন্তু ওই সফটওয়্যারটির মালিক নয় তারপরও সে কিন্তু ওপেন সোর্স এর কারণে সে সুবিধাটি পাচ্ছে এটি পরিবর্তন করা যায় কেননা ওই সফটওয়্যারটির মালিক এর সোর্স কোড সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে যার ফলে যে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারে। যেটি আমরা বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তৈরির মাধ্যম ওয়ার্ডপ্রেস এ দেখতে পাই যা দিয়ে আমরা ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারি এবং সেটি নিজের মতো করে কাস্টমাইজেশন করতে পারি। তাই বর্তমানে এইসব ওপেন সোর্স প্লাটফর্মগুলো ওয়েবসাইট বা বিভিন্ন সার্ভিসের জন্য খুবই জনপ্রিয় এবং তুলনামূলক সহজ একটি মাধ্যম।     

ওপেন সোর্স এর ইতিহাস :

১৯৮৩ সাল থেকে সর্বপ্রথম ফ্রি সফটওয়্যার এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রথম ফ্রি সফটওয়্যার কথাটির পরিবর্তে ওপেন সোর্স কথাটির ব্যবহার শুরু হয়। কিন্তু ওপেন সোর্স দিয়ে তৈরি প্রথম সিস্টেমটির নাম ছিল BSD Unix যা ৭০ এর দশকের শেষদিকে এবং ৮০ এর দশকের শুরুতে তৈরি হয়। ১৯৮৩ সালে ওপেন সোর্স এর আরেকটি প্রজেক্ট তৈরি হয় যার নাম ছিল GNU Project। Linux যেটিও কিনা ওপেন সোর্স জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অপারেটিং সিস্টেম যা ১৯৯১ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয়। 

এই সফটওয়্যার যারা তৈরি করেন তারা মূলত ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখেই এটি তৈরি করেন যাতে একজন ব্যবহারকারী তাদের এই ওপেন সোর্স ব্যবহার করে নতুন একটি সিস্টেম তৈরি করতে পারেন। যা একজন ব্যবহারকারীকে সহজেই কোনো একটি সিস্টেম তৈরির জন্য সাহায্য করে থাকে। তাই বর্তমানে ওপেন সোর্স প্লাটফর্মগুলো এতটা জনপ্রিয়। 

ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এর লিস্ট : 

LibreOffice : এটি হচ্ছে একটি ফ্রি ওপেন সোর্স অফিস প্রোগ্রাম জনিত সফটওয়্যার যা দিয়ে ওয়ার্ড প্রসেসিং, স্প্রেডশীটস, প্রেজেন্টেশন এসব করতে পারবেন। 

GIMP : যা হচ্ছে একটি ফ্রি ওপেন সোর্স ফটো এডিটিং সফটওয়্যার। 

VLC Media Player : ফ্রি ওপেন সোর্স মিডিয়া প্লাটফর্ম যা দিয়ে ভিডিও বা অডিও দেখা ও শোনা যায়। 

Blender : ফ্রি ওপেন সোর্স থ্রিডি সফটওয়্যার যেটি দিয়ে অ্যানিমেশন, মডেল এসব তৈরি করা যায়। 

Mozilla Firefox : যা হচ্ছে একটি ওয়েব ব্রাউজার যা দিয়ে আপনি ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে পারবেন। 

Linux : ওপেন সোর্স কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম যেটি আপনি সাধারণ কম্পিউটারে যেমন ব্যবহার করতে পারবেন তেমনি সুপারকম্পিউটারেও ব্যবহার করা যায়।   

Apache HTTP Server : ফ্রি ওপেন সোর্স ওয়েব সার্ভার যা ওয়েবসাইট হোস্টিং এর কাজে ব্যবহার করা হয়।                

PostgreSQL : যেটি হচ্ছে ফ্রি ওপেন সোর্স রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

WordPress : একটি ফ্রি ওপেন সোর্স সিস্টেম যা দিয়ে আপনি যে কোনো ধরনের ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। 

OpenShot : একটি ফ্রি ওপেন সোর্স ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। 

উক্ত প্লাটফর্মগুলোর সবই আপনি ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারেন আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী। 

ওপেন সোর্স সফটওয়্যার কীভাবে তৈরি করে ?

ওপেন সোর্স  তৈরি করে আপনি বিশ্বের আইটি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটিতে অবদান রাখতে পারেন। এখন আমরা জানবো কীভাবে ওপেন সোর্স জনিত একটি সিস্টেম তৈরি করতে হয়। 

প্রজেক্ট নির্বাচন করুন : আপনি কোন ধরনের ওপেন সোর্স নিয়ে কাজ করতে চান আপনাকে সেটি নির্বাচন করতে হবে।                                  

বেসিক জানুন : ওপেন সোর্স রিলেটেড যে বিষয়গুলো রয়েছে যেমন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইস্যু ট্র্যাকিং, কোড রিভিউ এসব সম্পর্কে জানতে হবে। 

বিদ্যমান প্রজেক্টগুলোতে কাজ করুন : যে সকল ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম রয়েছে আপনি সেসবের মধ্যে কাজ করতে পারেন তাদের বিভিন্ন ধরনের বাগ ফিক্স করুন,নতুন নতুন ফিচার এড করুন যার মাধ্যমে আপনি ওপেন সোর্স প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করা শিখতে পারবেন। নিজের প্রজেক্ট তৈরি করুন : আপনি যখন এভেইল্যাভেল ওপেন সোর্স প্লাটফর্মগুলোতে কাজ করে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন তখন আপনি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেই একটি ওপেন সোর্স তৈরির  পরিকল্পনা করতে পারেন। 

লাইসেন্স গ্রহণ :  ওপেন সোর্স এর জন্য লাইসেন্স নিন। জনপ্রিয় কিছু ওপেন সোর্স লাইসেন্স হলো MIT License, Apache License, and GNU General Public License।                                

প্রচারণা : আপনি যখন কোনো একটি ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম তৈরি করে ফেলবেন তখন এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন যাতে আপনার সোর্স এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। 

এই সমস্ত উপায়গুলো কাজে লাগিয়ে আপনি ওপেন সোর্স তৈরি করা শিখতে পারেন। 

ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এর সুবিধা : 

ওপেন সোর্স সার্ভিস বর্তমানে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কেননা এইখানে আপনি ফ্রিতেই অনেক ধরনের কাস্টমাইজেশন করতে পারবেন নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারবেন যে সুবিধাগুলোর জন্য মূলত ওপেন সোর্স বিষয়টি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়াও এর আরো কিছু সুবিধা রয়েছে তা আমরা এখন জানবো 

সহজলভ্যতা : ওপেন সোর্স প্লাটফর্মগুলো কাজের জন্য খুবই সহজ একটি মাধ্যম আপনি এখানে সবকিছু আগে থেকেই তৈরি করা পাবেন তাই আপনি সহজেই এখানে এসে কাজ করতে পারেন।                       

কাস্টমাইজেশনের স্বাধীনতা : এটি একটি ফ্রি ওপেন সোর্স  প্লাটফর্ম হওয়াতে আপনি নিজের ইচ্ছামতো এই প্লাটফর্ম গুলোতে কাস্টমাইজেশন করতে পারবেন যার মাধ্যমে আপনি ঐসব সফটওয়্যার আরো বেশি উন্নত করতে পারেন। 

সাশ্রয়ী : ওপেন সোর্স সিস্টেমগুলো সাধারণত ফ্রিতেই পাওয়া যায় বা খুবই কম খরচে পাওয়া যায় তাই এটি ব্যবহার করা সাশ্রয়ী হয়।

হাই কোয়ালিটি : ওপেন সোর্স সবার ব্যবহারের অনুমতি থাকে যার ফলে বিভিন্ন মানুষ এটি বিভিন্ন ভাবে কাস্টমাইজেশন করে আর তাই এই সোর্স গুলো থেকে খুবই ভালো মানের সেবা পাওয়া সম্ভব।                

সিকিউরিটি : ওপেন সোর্স প্লাটফর্মগুলোতে ব্যবহারকারীরা খুব সহজে এটির মধ্যে যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তা জনিত দুর্বলতা থেকে থাকে তবে সেটি শনাক্ত করতে পারে এবং পরবর্তীতে তাদের নিজেদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে সে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে যার ফলে ওই প্লাটফর্ম নিরাপত্তার দিক থেকে আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠে।  

ওপেন সোর্স সিস্টেমটির চাহিদা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যারা খুব ভালো কোডিং করতে জানেন না কিন্তু ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাদের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস এর মতো ওপেন সোর্স ওয়েবসাইট আজ খুবই জনপ্রিয় একটি নাম যা দিয়ে প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে। তাই বিষয়টি খুবই স্পষ্ট যে এই ধরনের ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম ওয়েবসাইট তৈরির জন্য কতটা কার্যকরী। 

২০২৩ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী গ্লোবালি ওপেন সোর্স সার্ভিসের মার্কেট ভ্যালু রয়েছে প্রায় ২৮.০৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি যা ২০২৩-২০৩০ সাল নাগাদ আরো ১৬.০৯% বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য একটি রিপোর্ট অনুযায়ী যা ১৭.৪৯% পর্যন্তও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও যে ওপেন সোর্স সার্ভিস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


Comments (0)

Share

Share this post with others

অনলাইন কোর্সে ১০০% স্কলারশিপের সুযোগ

অনলাইন কোর্সে ১০০% স্কলারশিপের সুযোগ

আসন সংখ্যার উপর ভিত্তি করে ইউ ওয়াই ল্যাবের সকল অনলাইন কোর্সে পাবেন ১০০% স্কলারশিপ! আসন নিশ্চিত করতে রেজিঃ করুন এখনই।